Posted in

মব হামলার ইতিহাস

মব হামলা

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর দলবদ্ধভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। এই ধরনের ঘটনা ‘মব’ নামে ব্যাপক প্রচার পেলেও এর প্রকৃত পরিচয় ‘মব হামলা’। ইংরেজি শব্দ ‘মব’-এর অর্থ ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’। সরল ভাষায়, এই উচ্ছৃঙ্খল জনতা নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে সহিংসতা চালালে তাকে বলা হয় ‘মব হামলা’ বা ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতার সহিংসতা’।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে মব হামলার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। আফ্রিকার দেশ উগান্ডার বিচার বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত সরকারি প্রকল্প জাস্টিস সেন্টার্স উগান্ডার ওয়েবসাইটে মব হামলার বিস্তারিত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মব হামলা হলো অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে কোনো ব্যক্তিকে অবমাননা, মারধর, হত্যা বা সম্পদ ধ্বংসের মাধ্যমে সাজা দেওয়া বা প্রতিশোধ নেওয়া। এই প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের কোনো সুযোগ পান না; উচ্ছৃঙ্খল জনতা নিজের হাতে আইন তুলে নেয়। মব হামলার মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে কোনো ন্যায়বিচার হয় না, কারণ এখানে সাক্ষী, বিচারক ও শাস্তিদাতা—সব ভূমিকায় থাকে উত্তেজিত জনতা নিজেই।

জাতিসংঘের মানবাধিকার-সংক্রান্ত সর্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, মব হামলার কারণে মানবাধিকারের বড় লঙ্ঘন ঘটে। ঘোষণাপত্রের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ট্রাইব্যুনালের অধীনে সবার সমতার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আর ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগপর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিকার আছে নিরপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার, এবং বিচারের সময় তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদেও বলা হয়েছে, ‘সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরবর্তী সাত মাসে গণপিটুনিতে অন্তত ১১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৭৪ জন। এর আগের ১০ বছরে গণপিটুনিতে মোট ৭৯২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ২০২৪ সালে—সেই বছর এ ধরনের ঘটনায় নিহত হন ১৭৯ জন।

মব হামলার ইতিহাস

মব হামলার ইতিহাস খুঁজতে গেলে সুদূর অতীতে ফিরে যেতে হয়। সামাজিক ব্যবস্থায় মানুষের বসবাসের শুরু থেকেই এই প্রবণতা ছিল। তখনকার সমাজে লিখিত কোনো আইন ছিল না; বিচারকাজ চলত সম্প্রদায়কেন্দ্রিক রীতিনীতির ভিত্তিতে। কোনো ব্যক্তিকে কী সাজা দেওয়া হবে, তা সম্মিলিতভাবে ঠিক করতেন সম্প্রদায়ের সদস্যরা। এসব সাজা ছিল নৃশংস এবং তা দেওয়া হতো জনসমক্ষে, যাতে ভবিষ্যতে একই অপরাধ আর না ঘটে।

গত কয়েক শতকের দিকে তাকালেও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মব হামলার ঘটনা দেখা যায়। এর মধ্যে বহুল আলোচিত একটি হলো ১৬৯২ ও ১৬৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা। হিস্ট্রি চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, কালো জাদুচর্চার অভিযোগ তুলে তাঁদের ‘ডাইনি’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল, আর এই মৃত্যুদণ্ডের পেছনে কাজ করেছিল কুসংস্কার, জনরোষের ভয় এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ।

ইউরোপে ফরাসি বিপ্লবের সময়, অর্থাৎ ১৭৮৯ থেকে ১৭৯৯ সাল পর্যন্ত যে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল, তার একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল উচ্ছৃঙ্খল জনতার সহিংসতা। সে সময় প্যারিসের বাস্তিল দুর্গে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা এবং শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয় বহু মানুষকে।

এ ছাড়া বড় জাতিগত হত্যাকাণ্ড, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, গুরুতর অপরাধ ও দুর্নীতির ঘটনার পর উত্তেজিত মানুষের হাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নিপীড়ন এমনকি হত্যার নজিরও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছে। এগুলোও উত্তেজিত জনতার নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার উদাহরণ। যেমন রিলিফওয়েবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডা গণহত্যার পর সেই গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে অনেককে হত্যা করেছিল উত্তেজিত জনতা।

দেশ ও পরিস্থিতিভেদে মব হামলার কারণ ভিন্ন হতে পারে। তবে এর পেছনে একটি মূল কারণ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়া।

আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবণতা বেশি

একবিংশ শতকে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকায় আশঙ্কাজনক হারে মব হামলার ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ জুন দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতে জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর মব হামলার একাধিক ঘটনা ঘটে।

ভারতে গরুর মাংসকে কেন্দ্র করে প্রায়ই মব হামলার ঘটনা ঘটে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ জুন ছত্তিশগড় রাজ্যের রাইপুরে গরু চোরাচালানের অভিযোগে দুজন মুসলিমকে মারধর করে হিন্দুত্ববাদী উচ্ছৃঙ্খল জনতা, যাঁদের একজন কিছুদিন পর মারা যান। ওই মাসেরই ১৮ ও ২২ তারিখে উত্তর প্রদেশ ও গুজরাটে পৃথক ঘটনায় দুজন মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আর ২৪ জুন ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়া জেলায় হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা এক নারীকে হত্যা করে, যিনি কিছুদিন আগে পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।

উচ্ছৃঙ্খল জনতার সহিংসতার আরেকটি রূপ বিদ্বেষজাত অপরাধ বা ‘হেট ক্রাইম’, যা অনেক সময় মব হামলার সঙ্গে মিলেমিশে যায়। এই ধরনের হামলার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে দেওয়া বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় ২০২৪ সালে ভারতে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে ভারতে মোট ১ হাজার ১৬৫টি বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ ঘটনায় মুসলিমদের নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। বক্তব্যদাতাদের মধ্যে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।

পাকিস্তানেও উচ্ছৃঙ্খল জনতার আইন হাতে তুলে নেওয়ার খবর প্রায়ই সামনে আসে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মব হামলার বেশির ভাগ ঘটনা ঘটে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট পাঞ্জাব প্রদেশের ফয়সালাবাদ জেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়ি ও গির্জায় প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে হামলা চালানো হয়, যার পর পুলিশ ১৩০ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুনে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে থানা থেকে এক খ্রিষ্টান পর্যটককে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, যা সে সময় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল।

আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, উগান্ডা, ঘানা ও কেনিয়ায় মব হামলার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি বলে সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন ঘানার কোয়ামে এনক্রুমাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির আইন বিভাগের অধ্যাপক মামে এফুয়া আদ্দাদজি-কুম। তাঁর মতে, এসব দেশে যে ধরনের অপরাধ বা ঘটনা মব হামলাকে উসকে দেয়, তার মধ্যে চুরি ও ডাকাতি সবচেয়ে বেশি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে, সাম্প্রতিক এক দশকে নাইজেরিয়ায় অন্তত ৫৫৫ জন মব হামলার শিকার হয়েছেন। আর ২০২৪ সালের মার্চে প্রকাশিত ‘হোয়াই উই কিল’ বইয়ের লেখক কার্ল কেম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ২৭ হাজার মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৮৯৪ জন অর্থাৎ প্রায় ৭ শতাংশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন মব হামলায়—আগের বছরের তুলনায় যা দ্বিগুণ।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক প্রবণতা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পরপরই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে দেখা যায়। সে সময় পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থকদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপরও হামলা হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশের ৪৯ জেলায় হামলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ১ হাজার ৬৮টি ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে পুলিশের অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ২০২৪ সালের ৪ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ১ হাজার ৪১৫টি অভিযোগের মধ্যে ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ ঘটেছে রাজনৈতিক কারণে এবং ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ ঘটেছে সাম্প্রদায়িক কারণে।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরের মাসগুলোতে মাজার ও ওরসে উচ্ছৃঙ্খল জনতার হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৫ সালের ৩ মার্চ রাতে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মাসকা বাজারসংলগ্ন হজরত শাহ নেওয়াজ ফকিরের মাজারে ওরস আয়োজনকে কেন্দ্র করে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে ভাঙচুর করা হয়, যেখানে গানবাজনা ও মাদক সেবনের অভিযোগ তোলা হয়। এর আগে ১ মার্চ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ‘রহিম শাহ বাবা ভান্ডারি মাজারে’ ওরসের নামে গানবাজনা, মাদক সেবনসহ অশ্লীল কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ তুলে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

উচ্ছৃঙ্খল জনতার হামলার কারণে ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নারীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বাতিল করা হয়। এর আগের দিন একদল মানুষ মিছিল নিয়ে এসে খেলার মাঠের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। আয়োজক ও স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্যে, নারীদের ফুটবল ম্যাচ নিয়ে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নারায়ণগঞ্জে আপত্তির মুখে দুই দিনব্যাপী ‘মহতি সাধুসঙ্গ ও লালন মেলা’ বন্ধ করা হয়, যেখানে নাচ-গানসহ ‘অনৈসলামিক’ কার্যক্রম চলার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

২০২৫ সালের ১ মার্চ রাজধানীর লালমাটিয়ায় চায়ের দোকানে ধূমপান করাকে কেন্দ্র করে দুই তরুণীকে লাঞ্ছিত করা হয়, যে ঘটনায় পরে রিংকু নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এক তরুণীর ধূমপান নিয়ে আপত্তি তুললে উত্তেজনা ছড়ায় এবং আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। একপর্যায়ে রিংকু নামের ওই ব্যক্তি তরুণীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক লাঞ্ছনার চেষ্টা করেন।

কারণ ও প্রতিকার

দেশ ও পরিস্থিতিভেদে মব হামলার কারণ ভিন্ন হতে পারে। তবে এর পেছনে মূল একটি কারণ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়া।

এ প্রসঙ্গে ২০২৪ সালের অক্টোবরে নাইজেরিয়ায় মব হামলা নিয়ে এক প্রতিবেদনে দেশটিতে কর্মরত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ইসা স্যানুসি বলেন, উচ্ছৃঙ্খল জনতার সৃষ্ট সহিংসতা দমনে ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা মানুষকে মব হামলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে। এই সমস্যাকে আরও জোরদার করে দুর্বল ও দুর্নীতিপরায়ণ আইনি ব্যবস্থা।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও আইনশৃঙ্খলার অবনতি মব হামলার একটি বড় কারণ। রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিপূর্ণভাবে সক্রিয় না থাকলে মব হামলার প্রবণতা বেড়ে যায়। সমাজের বিভিন্ন অংশ তখন নিজেদের স্বার্থ আদায়ের জন্য একত্র হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। কোনো দেশে গণঅভ্যুত্থান বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকে সেই পরিবর্তনকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা দিতে চান বা তা থেকে নিজের স্বার্থ আদায় করতে চান, আর তাঁদের ইন্ধনে বিভিন্ন গোষ্ঠী প্রভাবিত হয়।

মব হামলা নিয়ন্ত্রণে করণীয় প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা ইসা স্যানুসি মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজেদের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকায় সবার জন্য সমানভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারলে মব হামলা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। পাশাপাশি মানুষের আচরণ বদলানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম পরিকল্পনা করাও প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *