Posted in

ইঁদুর-উইপোকা টাকা কেটে ফেললে বা অন্যভাবে নষ্ট হলে কী করবেন

পরিবারের ভবিষ্যৎ ও জরুরি প্রয়োজনের কথা ভেবে আপনি টাকা জমাচ্ছেন। তবে ব্যাংকে না রেখে সেই টাকা ঘরের কোনো এক কোণে সংরক্ষণ করলেন। ধরা যাক, এভাবে জমানো টাকার পরিমাণ দাঁড়ালো প্রায় ৫০ হাজারে। হঠাৎ একদিন দেখলেন, দীর্ঘদিনের সঞ্চিত সেই টাকা ইঁদুর বা উইপোকা কেটে ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে নষ্ট হয়ে যাওয়া নোট নিয়ে কী করবেন? এই নোট বিনিময় করে নতুন টাকা পাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত, ছেঁড়া-ফাটা কিংবা বিকৃত নোট গ্রহণ ও বিনিময় করতে বাধ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছেঁড়া-পোড়া নোট বাজার থেকে তুলে নিয়ে তার বিনিময় মূল্য পরিশোধ করে থাকে। এ জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও কমিটি রয়েছে, যারা নির্ধারণ করে কোন নোটের বিনিময় হবে এবং কোনটির হবে না।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান, ২০২৫ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচ্ছন্ন নোট নীতিমালা অনুসরণ করা যেতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ছেঁড়া-ফাটা ও অপ্রচলনযোগ্য নোট নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। জমা হওয়া এসব নোট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক যথাযথ প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে।

এ ছাড়া বাজারে থাকা অপ্রচলনযোগ্য ও ত্রুটিপূর্ণ—যেমন ময়লাযুক্ত, ছেঁড়া-ফাটা, আগুনে পোড়া, স্যাঁতসেঁতে, মরিচাযুক্ত, অতিরিক্ত লেখা এবং খণ্ড-বিখণ্ড নোটও বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে প্রত্যাহার করে থাকে।

নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান অনুযায়ী, ইঁদুর বা উইপোকা কাটা নোটকে ‘দাবিযোগ্য’ নোট হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

দাবিযোগ্য নোট বলতে বোঝানো হয় এমন নোট, যার অক্ষত অংশের পরিমাণ ৯০ শতাংশ বা তার কম। এ ছাড়া স্যাঁতসেঁতে নোট, অতিরিক্ত জরাজীর্ণ নোট, রং বা কালি দিয়ে বিকৃত নোট, দুইয়ের বেশি খণ্ডে বিভক্ত নোট এবং অন্যভাবে বিকৃত নোটও দাবিযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

দাবি উপস্থাপন ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া

নষ্ট হয়ে যাওয়া নোট বিনিময়ের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাউন্টারে কিংবা যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে দাবি উপস্থাপন করা যায়।

প্রবিধান অনুযায়ী, যে কার্যালয়ে নোটে ‘দাবিযোগ্য’ শব্দ লিখে সিল দেওয়া হবে, সেই কার্যালয়ের মাধ্যমেই দাবি নিষ্পত্তি করা হবে। সিল দেওয়ার ৬ মাসের মধ্যে দাবির আবেদন করতে হবে এবং আবেদনের ৮ সপ্তাহের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।

তফসিলি ব্যাংকের যেকোনো শাখার মাধ্যমেও নোট-সম্পর্কিত দাবির আবেদন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শাখা আবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকটস্থ কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়। এরপর নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অথবা স্থানীয় কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় যেকোনো ব্যাংক শাখায়, বিশেষত কাছাকাছি সোনালী ব্যাংক বা কৃষি ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করলেও এ বিষয়ে সঠিক পরামর্শ পাওয়া সম্ভব।

দাবির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম

ছেঁড়া-ফাটা নোটের বিনিময় মূল্য পাওয়ার জন্য দাবি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করেছে।

উপস্থাপিত নোট বা নোটের খণ্ড অবশ্যই আসল নোটের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হতে হবে; না হলে দাবিটি প্রত্যাখ্যান করা হবে। বিকৃত ও গরমিলযুক্ত নোটের দাবিও প্রত্যাখ্যান করা হয়।

স্যাঁতসেঁতে নোটের বৈশিষ্ট্য ও খাঁটিত্ব সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তুষ্ট না হলে সংশ্লিষ্ট দাবি প্রত্যাখ্যান করা হবে।

ইচ্ছাকৃতভাবে কাটা, ছেঁড়া বা ছিদ্র করা নোট বা নোটের অংশ দাবিযোগ্য নোট হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সেই দাবিও প্রত্যাখ্যান করা হবে।

দাবির নিষ্পত্তিতে মূল্য পরিশোধের হার

নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান অনুযায়ী মূল্য পরিশোধের হার নির্ধারিত হয় নোটের অক্ষত অংশের পরিমাণের ভিত্তিতে।

একক নোট বা একক খণ্ডের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ অক্ষত থাকলে নোটের মূল্যমানের শতভাগ পরিশোধ করা হবে।

অক্ষত অংশ ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে থাকলে মূল্যমানের ৭৫ শতাংশ পরিশোধ করা হবে।

অক্ষত অংশ ৫১ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে থাকলে মূল্যমানের ৫০ শতাংশ পরিশোধ করা হবে।

একাধিক খণ্ডে বিভক্ত নোটের ক্ষেত্রে, উপস্থাপিত নোটের দুই পাশের নম্বর অক্ষত থাকলে এবং নম্বরযুক্ত খণ্ডগুলোর মোট আয়তন কমপক্ষে ৬০ শতাংশ হলে মূল্যমানের ৫০ শতাংশ পরিশোধ করা হবে।

তবে একক নোট বা একক খণ্ডের অক্ষত অংশ ন্যূনতম ৫১ শতাংশের কম হলে সেই নোটের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হবে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনে উপস্থাপিত নোট সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারেন বা তদন্ত করতে পারেন। নোটটি আসল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তিনি বিশেষজ্ঞ মতামতের জন্য প্রয়োজনে তা সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে পাঠাতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *